Home Lifestyle News তিস্তায় বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে আসছে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ

তিস্তায় বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে আসছে প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ

সুরমা, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর মতো এবার দূষণের শিকার হতে চলছে তিস্তা নদী।

তিস্তায় বন্যার পানিতে ভারত থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য স্রোতের টানে ভেসে আসছে। এই বর্জ্য ক্রমে মিলিত হচ্ছে যমুনায় যার ফলে দূষণ হচ্ছে তিস্তাসহ যমুনা নদী। যদি দূষণের মাত্রা দিনদিন বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে উত্তরাঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পতিত হতে পারে ।

Government Job Circular Application on facebook

ভারত থেকে ভেসে আসা এইসব প্লাস্টিকের বর্জ্য, পলিথিন ব্যাগ, কাপড় এবং আরো নানা ধরনের আবর্জনা মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। ফলে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। উর্বরতা হ্রাস পাওয়ার কারনে নদীর দুপাড়ের জমি গুলোতে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা দিন দিন তুলনা মূলক কমে যাচ্ছে। নদীর দূষিত পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় নানা ধরনের পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে ক্ষেতের ফসল।

পোকামাকড় দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে ক্ষেতের ফসল

নদীর তলদেশে সেইসব প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে থাকার কারনে মাছের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। গ্রীষ্মকালে পানি শূন্য ও বর্ষায় বর্জ্য ভেসে আসার কারনে তিস্তার বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে উত্তরের ইলিশ নামে খ্যাত বৈরালিসহ অনেক সুস্বাদু মাছ। সেই সঙ্গে বেকার হয়ে পড়ছে জেলে সম্প্রদায়।

অন্যদিকে এ ময়লা পানিতে গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করায় নদীতীরবর্তী মানুষেরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বিষাক্ত পানিতে নিজেরা গোসল না করলেও  গরু-মহিষকে গোসল করাতে গিয়ে অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

গরু-মহিষকে গোসল

জানা যায়, ভারতে তিস্তা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাট-বাজার ও কিছু ছোট-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। এইসব হাট-বাজার ও কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি তিস্তা নদীতে ফেলার কারণে দিন-দিন দূষিত ও কালো হয়ে যাচ্ছে তিস্তার পানি।

তিস্তা নদী দূষণের আরেকটি প্রধান কারণ হলো তিস্তা চর এলাকায় পিকনিক স্পট। ভারতের অনেকের জায়গায় শীতের মৌসুমে তিস্তার চরে গড়ে তোলা হয় পিকনিক স্পট। এইসব পিকনিক স্পটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সরাগম ঘটে। কোন রকম শোধন ব্যবস্থা ছাড়াই পিকনিক স্পট গুলোর বর্জ্য ফেলে রাখা হয় চরের আনাচে-কানাচে–। বর্ষায় সময় সেইসব বর্জ্য ভেসে আসে ভাটি অঞ্চলে যার ফলে দূষিত হয়ে যায় তিস্তার ভাটি অঞ্চল গুলো

জানা যায়, প্লাস্টিক দূষণ হলো পরিবেশ কর্তৃক প্লাস্টিক পদার্থের আহরণ। যা মানবজাতীর উপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। মানুষের অসচেতনতাই প্লাস্টিক দূষণের প্রধান কারণ। প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে পচতে প্রচুর সময় লাগে। তাই একে অপচ্য পদার্থ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে বলে পরিবেশবিদরা অভিমত ব্যাক্ত করেন।
পানির মধ্যে উদ্ভিদ কনা ও প্রাণী কনা থাকে। যা খালি চোখে দেখা যায় না। সাধারণত উদ্ভিদ, জলজ প্রাণী, নদীর চর অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য নদীতে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাঁধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তাই তিস্তা নদীর পানি বন্টন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পাশাপাশি এর দূষণ রোধের জন্যেও আমাদের সোচ্চার হতে হবে….।

— সাজু বাঙালি
সাধারণ সম্পদক
তিস্তা নদী রক্ষা কমিটি  

সরকারি বেসরকারি সকল চাকরির খবর পড়তে আমাদের চাকরির খবর পেজে ভিজিট করুন। জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজে

RELATED ARTICLE

Most Popular

বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা “সাড়া” এর প্রথম ফেসবুক লাইভ ” সাড়া – স্বাস্থ্য কথন”

মোঃ আরমান হোসেন দীপ্ত: গতকাল ২২ শে আগষ্ট, শনিবার রাত ৯ টায় বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা সার্ভিস "সাড়া" আয়োজিত ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠিত...

সাড়ায় যে সকল চিকিৎসক সাড়া দেন

কোভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়ে গেছে। এ সংকট মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে টেলিমেডিসিন...

হামরা তো জানি না টেলিমেডিসিন টা ফির কি?

গতকাল (১৮/০৮/২০২০) তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির কয়েকজন  সদস্য দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় সাড়া টেলিমেডিসিন চিকিৎসা সেবার প্রচার করার জন্য যায়। পথিমধ্যে তারা বড়খাতা, বাউরা, ডালিয়া...

দেশের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলো “সাড়া”

গতকাল (১৮/০৮/২০২০) তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির কয়েকজন  সদস্য দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় সাড়া টেলিমেডিসিন চিকিৎসা সেবার প্রচার করার জন্য যায়। পথিমধ্যে তারা বড়খাতা, বাউরা, ডালিয়া...